বাংলাদেশ গ্রীন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন "জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা এবং টেকসই পরিবেশ উন্নয়নে তরুণ সমাজ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা। আমরা পরিবেশগত সচেতনতা বৃদ্ধি, বৃক্ষরোপণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ এবং পরিবেশ-বান্ধব জীবনযাত্রার প্রসারের পাশাপাশি গ্রীন এন্ট্রাপ্রেনারশিপ বা সবুজ উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।" ভিশন (Vision) "পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সহনশীলতা এবং সবুজ অর্থায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, উদ্ভাবনী ও নেতৃত্বদানকারী স্বেচ্ছাসেবী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করা; যা একটি পরিবেশ-সচেতন এবং টেকসই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিনির্মাণে পথ দেখাবে।" বাংলাদেশ গ্রীন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন .মাধ্যমে দেশের কল্যাণ, সামাজিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বার্থ রক্ষা করে কাজ করার জন্য কাজের তালিকা নিচে প্রদত্ত হইলো: ১. টেকসই কৃষি ও ‘নগর কৃষি’ (Urban Farming) প্রসার # কাজ: ছাদবাগান, হাইড্রোপনিক্স এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে জৈব চাষাবাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া। # স্বার্থ: এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, পরিবেশের তাপমাত্রা কমাবে এবং গ্রীন ইকোনমিতে অবদান রাখবে। ২. প্লাস্টিক মুক্ত বাংলাদেশ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা # কাজ: পর্যটন কেন্দ্র (যেমন: কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন), নদী ও খাল-বিল থেকে প্লাস্টিক অপসারণ এবং রি-সাইক্লিং বা পুনর্ব্যবহারযোগ্য পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো। # স্বার্থ: পরিবেশ দূষণ রোধ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে আন্তর্জাতিক জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ভূমিকা রাখবে। ৩. উপকূলীয় ও বনাঞ্চল সবুজায়ন প্রকল্প (Coastal Afforestation) # কাজ: সুন্দরবনসহ দেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে এবং নদীভাঙন প্রবণ এলাকায় ব্যাপক হারে ম্যানগ্রোভ ও স্থানীয় প্রজাতির গাছ লাগানো। # স্বার্থ: এটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঢাল হিসেবে কাজ করবে, কার্বন নিঃসরণ কমাবে এবং আন্তর্জাতিক কার্বন ক্রেডিট অর্জনে দেশকে সাহায্য করবে। ৪. নবায়নযোগ্য শক্তি ও পরিবেশ-বান্ধব প্রযুক্তির সচেতনতা # কাজ: গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকায় সৌরশক্তি (Solar Energy) এবং বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট ব্যবহারে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া। # স্বার্থ: দেশের জ্বালানি সংকট দূর হবে, কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমবে এবং বৈশ্বিক গ্রীন এনার্জি এজেন্ডার সাথে সামঞ্জস্য থাকবে। ৫. যুব সমাজের জন্য ‘সবুজ উদ্যোক্তা’ (Green Entrepreneurship) তৈরি # কাজ: পাটজাত পণ্য, মাটির তৈরি তৈজসপত্র এবং পরিবেশ-বান্ধব প্যাকেজিং তৈরির ক্ষুদ্র উদ্যোগ স্থাপনে তরুণদের প্রশিক্ষণ ও ফান্ডিংয়ে সহায়তা করা। # স্বার্থ: বেকারত্ব দূরীকরণ, দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশ এবং পরিবেশ-বান্ধব পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে অর্থনীতি মজবুত হবে। ৬. জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচেতনতা # কাজ: জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করা। # স্বার্থ: দেশের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। ৭. নদী, জলাশয় ও সুপেয় পানি সংরক্ষণ (Water Security) • কাজ: দেশের নদী ও খাল রক্ষায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং বৃষ্টির পানি ধরে রাখার (Rainwater Harvesting) আধুনিক প্রযুক্তির প্রচার। • স্বার্থ: ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষা পাবে এবং এসডিজি (SDG 6: Clean Water and Sanitation) অর্জনে দেশ এগিয়ে যাবে। ৮. ইকো-ট্যুরিজম বা পরিবেশ-বান্ধব পর্যটন উন্নয়ন • কাজ: দেশের পর্যটন এলাকাগুলোতে পরিবেশের ক্ষতি না করে কীভাবে ভ্রমণ করতে হয় সে বিষয়ে গাইড, পর্যটক ও স্থানীয়দের সচেতন করা। • স্বার্থ: দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হবে। ৯. ই-বর্জ্য (E-Waste) ও বিপজ্জনক বর্জ্য সচেতনতা • কাজ: নষ্ট মোবাইল, ল্যাপটপ বা ব্যাটারির মতো ইলেকট্রনিক বর্জ্য যেখানে-সেখানে না ফেলে তা নির্দিষ্ট স্থানে জমা দেওয়া এবং নিরাপদ রিসাইক্লিংয়ের ব্যবস্থা করা। • স্বার্থ: মাটি ও পানির মারাত্মক রাসায়নিক দূষণ রোধ হবে, যা জনস্বাস্থ্য রক্ষায় বিশাল ভূমিকা রাখবে। ১০. পরিবেশ আইনি সহায়তা ও গণসচেতনতা (Environmental Advocacy) • কাজ: অবৈধভাবে পাহাড় কাটা, নদী দখল বা গাছ কাটার বিরুদ্ধে জনমত তৈরি এবং পরিবেশ বিষয়ক আইনের প্রচার ও আইনি লড়াইয়ে সহায়তা। • স্বার্থ: দেশের প্রচলিত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা পাবে। ১১. গ্রীন স্কুল ও ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পেইন • কাজ: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘জিরো ওয়েস্ট’ বা শতভাগ পরিবেশ-বান্ধব ক্যাম্পাসে রূপান্তর করা এবং শিক্ষার্থীদের পরিবেশ ক্লাব গঠনে সহায়তা করা।